বাজেট ২০২৬-২৭: উৎসে কর ও অগ্রিম করের হার পরিবর্তন

আয়কর নিয়ে নানা অভিযোগ থাকে ব্যবসায়ীদের। করদাতাদের মাঝে থাকে ভীতি। সেই আয়কর খাতে আসছে বাজেটে থাকছে নানা ছাড়ের ছড়াছড়ি। বাড়ছে না বরং অপরিবর্তিতই থাকছে করপোরেট করহারও। করমুক্ত থাকছে ফ্রিল্যান্সিং ও কনটেন্ট ক্রিয়েশন। পরিবেশবান্ধব, সাশ্রয়ী ও টেকসই সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকে উৎসাহ দিতে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত সৌরবিদ্যুৎ খাতে ০% করহার প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রণালয় ও এনবিআর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় ও কৃষিপণ্যে কর ছাড় মৌলিক কৃষি ও ভোগ্যপণ্য, যেমন-ধান, চাল, গম, আলু, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, বীজসহ ৬০ টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর উৎসে করের হার ৫%, ২%, ১% থেকে হ্রাস করে ০.৫ শতাংশ করা হচ্ছে।

এর ফলে দ্রব্যমূল্য ও মূল্যস্ফীতি হ্রাস পাবে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী হবে মনে করছে সরকার। সাধারণ জনগণকে স্বস্তি দিতে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে উৎসে কর হ্রাসের প্রস্তাব পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ইলেক্ট্রিক চার্জিং স্টেশন, ইলেক্ট্রিক বাস এবং ইলেক্ট্রিক ট্রাক আমদানির ক্ষেত্রে উৎসে করহার ৫% থেকে কমিয়ে ০% করা হচ্ছে। কম্পিউটার প্রিন্টার, পোর্টেবল অটোমেটিক ডাটা প্রসেসিং মেশিন, ফ্ল্যাশ মেমোরি এবং কম্পিউটার মনিটর আমদানিতে বিদ্যমান ৫% অগ্রিম কর কমিয়ে ২% করা হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে মোবাইলফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ২২টি কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম করের হার ৫% ও ২% থেকে কমিয়ে ১% করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনকারির কাছে থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ের ওপর উৎসে কর কর্তনের হার গত বছর ৬% থেকে কমিয়ে ৪% করা হচ্ছে, এবছর উৎসে করের হার আরো ১ % কমিয়ে ৩% করার প্রস্তাব করা হয়েছে। রপ্তানি আয় থেকে প্রাপ্ত নগদ প্রণোদনার উপর উৎসে করের হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে কর ছাড়ের অংশ হিসেবে কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে বিদ্যমান ৫% অগ্রিম কর সম্পূর্ণ মওকুফ করা হচ্ছে। এতে কিডনি রোগীদের প্রতিটি ডায়ালাসিস বাবদ খরচ প্রায় ৬০০ টাকা কমবে। শারীরিকভাবে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিবর্গের ব্যবহারের জন্য আমদানি করা ১৫টি পণ্যের অগ্রিম আয়করের হার ২% থেকে কমিয়ে ১% করা হচ্ছে।

স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকার সরবরাহে উৎসে করের হার ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করা হচ্ছে। রিফাইনারি কর্তৃক জ্বালানি তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তনের হার ১.৫% থেকে কমিয়ে ১% করার প্রস্তাব করা হয়েছে। রিসাইকেল্ড পণ্য ও রিসাইক্লিং কাঁচামালের করহার ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিটিআরসির প্রাপ্ত রেভিনিউ শেয়ার, লাইসেন্স ফি বা চার্জের ওপর প্রযোজ্য ২০% উৎসে কর প্রত্যাহার করার প্রস্তাব করা হয়েছে। মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা-খাতে উৎসে কর কর্তনের হার ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্যাকেজিং ম্যাটেরিয়াল সরবরাহের ওপর উৎসে করের হার ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

পরিবহন, ক্যারিং ও গাড়ি ভাড়া সেবা খাতে উৎসে করের হার ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে উৎসে অগ্রিম করের সাধারণ হার ৫% থেকে কমিয়ে ৪% করার প্রস্তাব করা হয়েছে। যন্ত্রপাতি ভাড়া বাবদ অনিবাসি করদাতাকে পরিশোধ খাতে উৎসে কর কর্তনের হার ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অনিবাসী করদাতাকে পরিশোধিত বীমা প্রিমিয়াম থেকে উৎসে কর কর্তনের হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

অনিবাসীকে পরিশোধিত সুদের ওপর উৎসে কর কর্তনের হার ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপগুলো ব্যবসার নগদ প্রবাহ বাড়াবে, ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির চাপ কমাবে, উৎপাদন ব্যয় কমাবে। এতে শিল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে। উৎসে করকে ন্যূনতম করের পরিবর্তে অগ্রিম কর হিসাবে বিবেচনা করা এতদিন করযোগ্য বা কম আয় থাকা সত্ত্বেও উৎসে কাটা কর বাধ্যতামূলক ন্যূনতম কর হিসেবে বিবেচনা করা হত। যা ব্যবসায় পুঁজির সংকট তৈরি করতো। এই বিধান বাতিল করে উৎসে করকে অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য করার আন্তর্জাতিক বিধান চালু করা হচ্ছে। অতিরিক্ত পরিশোধিত উৎসে কর ফেরত প্রদান করা হবে। এর মাধ্যমে দেশীয় ব্যবসার সহজ পরিবেশ নিশ্চিত করা যাবে।

কর্পোরেট কর সরকার বলছে বিনিয়োগ না হলে কর্মসংস্থান হয় না, উৎপাদন বাড়ে না, অর্থনীতি শক্তিশালী হয় না। তাই এবারের বাজেটে কর্পোরেট কর পরিপালন ব্যবস্থা সহজ ও ব্যবসাবান্ধব করা হচ্ছে। অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল ও কর পরিশোধের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অতিরিক্ত নিয়মের বেড়াজাল থেকে করদাতাদের রেহাই দেয়া ও ব্যবসার অনুমোদনযোগ্য খরচ বাড়ানো হচ্ছে। উৎসে কর কর্তন না করার কারণে খরচ অগ্রাহ্য করার বিদ্যমান বিধান বিলোপ করার মাধ্যমে করদাতার কার্যকর করভার কমানো হচ্ছে। অডিটের জন্য কর মামলা নির্বাচন এবং উৎসে কর যাচাইয়ের জন্য নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও অটোমেটেড করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। কর্পোরেট কর হার বিদ্যমান কর্পোরেট করহার আগামী কর বছরে অপরিবর্তিত থাকছে। তবে, আগামী দিনগুলোতে করের আওতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ কর আদায় করা গেলে, যেসব খাতে বিদ্যমান কর হার কিছুটা বেশি রয়েছে, তা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা হবে।

খাদ্য নিরাপত্তা দেশে ভোজ্যতেলের সরবরাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে, দেশীয় তৈলবীজ ব্যবহার করে ভোজ্যতেল উৎপাদন ব্যবসার করহার আগামী ১০ বছরের জন্য ০% করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষি খাতে বিনিয়োগ ও দেশে ভোজ্যতেলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছে সরকার। নবায়নযোগ্য জ্বালানি পরিবেশবান্ধব, সাশ্রয়ী ও টেকসই সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকে উৎসাহ দিতে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত সৌরবিদ্যুৎ খাতে ০% কর হার প্রস্তাব করা হয়েছে। একইসঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের, সৌরবিদ্যুৎ বিল পরিশোধের বিপরীতে ৫% কর রেয়াত সুবিধা দিতে চায় সরকার। সব ধরনের ইলেকট্রিক ভেহিকেল (ইভি) বিআরটিএতে রেজিস্ট্রেশন ও নবায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান অগ্রিম আয়করের পরিমাণ ২ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ইলেক্ট্রিক গাড়ির ২০০, ৩০০, ৪০০ এবং ৪০০ কিলোওয়াটের বেশি ক্যাপাসিটির ভিত্তিতে যথাক্রমে ২৫ হাজার, ৫০ হাজার, ৭৫ হাজার এবং ১ লাখ টাকা নির্ধারণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এনবিআর মনে করছে, সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার এবং ইলেক্ট্রিক গাড়ির ব্যবহার ব্যাপকহারে বাড়লে বিদেশ থেকে জ্বালানি তেল আমদানির চাপ কমবে। সরকার চায় বাংলাদেশের শিল্পায়ন হোক উৎপাদনশীল, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব।

বাজেটের কেন্দ্রবিন্দুতে কর্মসংস্থান সরকার মনে করছে, এই বাজেটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কর্মসংস্থান। তাই সরকার করনীতিকে এমনভাবে সাজাতে চায়, যাতে নতুন ব্যবসা, নতুন ধারণা এবং নতুন প্রজন্ম এগিয়ে আসতে পারে। তরুণ, নারী, প্রতিবন্ধী ও উদ্ভাবনী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সহায়তা দিতে সব ধরনের ফ্রিল্যান্সিং থেকে আয় করমুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সকল ধরনের কন্টেন্ট ক্রিয়েশন থেকে আয়কে করমুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। স্টার্টআপ, উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার ক্ষেত্রে টার্নওভার ট্যাক্স ০% প্রস্তাব করা হয়েছে। এসএমই খাতেও সুখবর এসএমই উদ্যোক্তাদের ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভার এবং নারী ও প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভার থেকে অর্জিত আয় করমুক্ত প্রস্তাব করা হয়েছে। এসএমই উদ্যোক্তাদের ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভার এবং নারী ও প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের টার্নওভার ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাইরে যেকোনো উৎপাদনমুখী শিল্প, পর্যটন বা ক্রীড়াক্ষেত্রের স্থাপনা ও যন্ত্রপাতির বিনিয়োগের ওপর প্রথম বছরে ৬০% এবং দ্বিতীয় বছরে ৪০% হারে ত্বরান্বিত অবচয় (accelerated depreciation) সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকার বিশ্বাস করে, সঠিক করনীতি প্রণীত হলে, উদ্যোগ বাড়বে এবং কর্মসংস্থান তৈরি হবে। মানবিক প্রতিষ্ঠানে কর রেয়াত রাষ্ট্রের পাশাপাশি সমাজের মানবিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ উদ্দেশ্যে করদাতাদের দাতব্য ও জনকল্যাণমূলক কাজে দান করাকে উৎসাহ প্রদান করতে কর রেয়াত প্রদানের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য, প্রতিবন্ধী সেবা, ক্যান্সার, অটিজম, ডায়াবেটিস, থ্যালাসেমিয়া ও সামাজিক কল্যাণে নিয়োজিত ১১ টি জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের তালিকা অনুমোদনের প্রস্তাব করা হয়েছে। কিছু মৌলিক সংস্কার ব্যবসা সহজীকরণের জন্য কিছু মৌলিক সংস্কার আনতে চায় সরকার। সরকারের লক্ষ্য করের হার বৃদ্ধি নয় বরং করের ভিত্তি সম্প্রসারণ। এই উদ্দেশ্যে কয়েকটি বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। করভিত্তি সম্প্রসারণের জন্য খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহের ওপর ০.২০ শতাংশ অগ্রিম কর সংগ্রহের প্রস্তাব করা হয়েছে।

খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে সংগৃহীত এ অগ্রিম করের পরিমাণ হবে অতি নগন্য, প্রতি ১ হাজার টাকায় মাত্র ২ টাকা। তাছাড়া, অগ্রিম সংগৃহীত এ আয়কর করদাতার প্রদেয় করের সঙ্গে সমন্বয় হবে। এ উদ্যোগের ফলে কর ভিত্তি সম্প্রসারণ হবে বলে আশা করছে সরকার। স্টুডেন্ট অ্যাকাউন্ট, নো-ফ্রিলস অ্যাকাউন্ট ও বোর্ড থেকে গেজেট দিয়ে টিআইএন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি ব্যতীত, অন্য যেকোনো ব্যক্তি, ব্যাংক হিসাব খোলার সময় টিআইএন সনদ দাখিল করার বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে। সেন্ট্রাল ডাটা ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে এনবিআরের তথ্যভান্ডারকে জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংকিং, ইউটিলিটি, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্ত করে তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে।

উইথহোল্ডারস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (WIN) প্রবর্তন করে উৎসে কর ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা হবে। মোটরসাইকেল নিবন্ধনে টিআইএন বাধ্যতামূলক ১৫০ সিসি ও তদূর্ধ্ব সিসি’র মোটরসাইকেলের নিবন্ধনের ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে মোটরসাইকেল মালিকদেরকে রেজিস্ট্রেশন অথবা রেজিস্ট্রেশন নবায়ন করতে কোন কর পরিশোধ করতে হবে না। করদাতাদের সম্মান ও স্বীকৃতি করদাতাদের যথাযথ সম্মান ও স্বীকৃতি প্রদানের মাধ্যমে সামাজিকভাবে সম্মানিত করা এবং সবাইকে কর প্রদানে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে প্রণীত জাতীয় ট্যাক্স কার্ড নীতিমালা, ২০১০ এবং জেলাভিত্তিক সর্বোচ্চ ও দীর্ঘ সময় আয়কর প্রদানকারী করদাতাদের পুরস্কার প্রদান নীতিমালা, ২০০৮ দুটি বাতিল করে “সেরা করদাতা পুরস্কার নীতিমালা, ২০২৬” প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ নীতিমালা অনুযায়ী সারাদেশ থেকে বাছাই করে ৬৭ জন করদাতাকে সেরা করাদাতার পুরস্কার দেওয়া হবে। সর্বোচ্চ কর প্রদানকারী ব্যক্তি পর্যায়ের করদাতা থেকে ১৫ জন, সর্বোচ্চ কর প্রদানকারী সিনিয়র সিটিজেন করদাতা থেকে একজন, সর্বোচ্চ কর প্রদানকারী প্রতিবন্ধী করদাতা থেকে একজন, সর্বোচ্চ কর প্রদানকারী মহিলা করদাতা থেকে ৫ জন; চিকিৎসক, সাংবাদিক, আইনজীবী, প্রকৌশলী, স্থপতি, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস/কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস, খেলোয়াড় এবং শিল্পী শ্রেণির পেশাজীবী সর্বোচ্চ কর প্রদানকারী করদাতা থেকে ৮জন, সর্বোচ্চ কর প্রদানকারী কোম্পানি পর্যায়ের করদাতা থেকে ১৫জন এবং ব্যাংকিং, নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা (লাইফ), বীমা (নন-লাইফ), চিকিৎসা সেবা, তৈরি পোশাক, প্রকৌশল, ইস্পাত প্রকৌশল, কৃষি, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক, জ্বালানি, পাট, স্পিনিং ও টেক্সটাইল, ঔষধ ও রসায়ন, প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া, রিয়েল এস্টেট, চামড়া শিল্প, শিক্ষা সেবা, পর্যটন সেবা, চা শিল্প, ট্রাস্ট এবং অন্যান্য খাতভিত্তিক সর্বোচ্চ করদাতা থেকে ২২ জনসহ মোট ৬৭জনকে এ পুরস্কার দেওয়া হবে। সেরা করদাতা পুরস্কার প্রাপ্ত করদাতারা যেসব সুবিধাদি পাবেন সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকার কর্তৃক আয়োজিত বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পাবেন। সংশ্লিষ্ট জেলায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পাবেন।

সার্কিট হাউসে কক্ষ প্রাপ্তিতে অগ্রাধিকার পাবেন। সেরা করদাতা পুরস্কার প্রাপ্ত করদাতার স্ত্রী/স্বামী, নির্ভরশীল পুত্র-কন্যা ও নিজের চিকিৎসার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলায় অবস্থিত সরকারি হাসপাতালের কেবিন সুবিধা পাবেন। যে কোনো ভ্রমণে বাংলাদেশ বিমান, রেলপথ ও জলপথে সরকারি যানবাহনে টিকেট প্রাপ্তিতে অগ্রাধিকার পাবেন। বিমান বন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারের সুবিধা পাবেন। জাতীয় ও বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ক্রীড়া প্রদর্শনীতে টিকেট প্রাপ্তিতে অগ্রাধিকার পাবেন। প্রতি বছর সেরা পুরস্কার প্রাপ্ত করদাতাদের নামের প্রজ্ঞাপন সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হবে এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর-সংস্থাগুলো সেরা করদাতা পুরস্কারপ্রাপ্ত করদাতাদের জন্য সুযোগ-সুবিধাগুলি প্রাপ্তির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *